
0
শিবিরকে হাজার বার ‘গুপ্ত’ বলার ঘোষণা ছাত্রদল সম্পাদকের
April 22, 2026
Posted 3 hours ago by
প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিবিরকে হাজার বার ‘গুপ্ত’ বলার ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। তিনি বলেন, একবার ‘গুপ্ত’ বলাতেই যাদের এত জ্বালা ধরেছে, এখন থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের হাজার হাজার বার ‘গুপ্ত’ বলা হবে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সন্ত্রাসের রাজনীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদল চূড়ান্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে চট্টগ্রাম সিটি কলেজের একটি দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রশিবিরকে উদ্দেশ্য করে তিনি এসব কথা বলেন। নাছির বলেন, দেয়ালে যদি ছাত্রদল ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে কোনো বাক্য লিখেও থাকে, তারা পাল্টা আরেকটি দেয়ালে লিখতে পারত। কিন্তু তারা ছাত্রদলের অসংখ্য কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। তিনি বলেন, ছাত্রশিবির যেখানে তূলনামূলক শক্তিশালী, সেখানে তারা কেমন সন্ত্রাসের বিজ বপন করে, তা আমরা আজ দেখেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা এমন কাজের সাহস করত না। এ পর্যন্ত তারা যতগুলো ঘটনা ঘটিয়েছে, তার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ চট্টগ্রামে। কারণ সেখানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তাদের অবস্থান তূলনামূলক ভালো। যদি ছাত্রদলের আরেকটি নেতাকর্মীর ওপরও হামলা করা হয়, ছাত্রশিবিরের নেতাদের ক্যাম্পাসে স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন নাছির। নাছির বলেন, বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতিতে একটি জিনিস আপনারা লক্ষ্য করেছেন। কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ভুয়া ও মিথ্যা ন্যারেটিভ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে চায়। ছাত্রশিবিরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ডাকসুর ভিপি, জিএস, মোসাদ্দেক এবং এবি জুবায়ের-আপনাদের ব্যবহৃত ফোন কোন দেশ থেকে আসা-যেখানে গুপ্ত রাজনীতি ও মুনাফেকের রাজনীতি দেখা যায় না। আমাদের নেতাকর্মীরা তো ফোন খুললেই এসব দেখতে পান। মিছিলে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহস, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাছুম বিল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাওন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আলম ভূঁইয়া ইমনসহ একাধিক নেতা বক্তব্য রাখেন। গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা সহিঞ্চুতার পরিচয় দিয়েছি। কিন্তু কিছু উশৃঙ্খল ছাত্র, পরে জানা গেছে তারা গুপ্ত রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তারা একের পর এক মব কালচারকে উসকে দিয়ে বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে বিভ্রান্তকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। 'ছাত্রদলের কোনো কর্মী যদি উস্কানিদাতা বা দুষ্কৃতিকারীদের দাঁতের চিকিৎসা করার জন্য উৎসাহিত হয় অর্থাৎ যদি দাঁত ভাঙা জবাব দেয়, তবে ছাত্রদল শোকজ বা বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ নেবে কি না তা ভেবে দেখবে।' তিনি বলেন, যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হলে গেস্টরুম-গণরুমের মতো নিকৃষ্ট কালচারে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের সম্পৃক্ততা পেয়ে থাকেন, তাহলে আমি তার নামে মামলা করব। মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীরা ছাড়াও ঢাকা কলেজের নেতারা, কবি নজরুল কলেজের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি কলেজের একটি দেয়ালে গ্রাফিতির নিচে লেখা ছিল—‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। সোমবার কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী গিয়ে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দেন। পরে সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেওয়া হয়। এ ঘটনার জেরে আজ মঙ্গলবার দুপক্ষের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষ হয়।

BD24Live
Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.