নেপালে নতুন সরকারের শপথের পরদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রেপ্তার

নেপালে নতুন সরকারের শপথের পরদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রেপ্তার

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শপথ গ্রহণের পরদিনই গ্রেপ্তার করা হলো প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে। শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরের দিকে রাজধানী কাঠমান্ডুর ভক্তপুর এলাকায় নিজ নিজ বাসভবন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছে নেপালের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রাজধানী শাখা কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশ। কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, নেপালের বিশেষ আদালতের সাবেক বিচারক গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পূর্ণভাবে আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দু’জনকে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি’র নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ব্যাপকমাত্রার জেন-জি বিক্ষোভ হয়েছিল নেপালে। বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ভূমিকায় নামার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী অলি। সে সময় নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিরেন রমেশ লেখক। সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভে জনতার সঙ্গে ব্যাপক সংঘাত হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। সংঘর্ষ সবচেয়ে তীব্র হয়ে উঠেছিল ৮ ও ৯ সেপ্টম্বর। এই দু’দিনে নেপালে নিহত হন কমপক্ষে ৭০ জন। এই নিহতদের মধ্যে ১৯ জন ছিলেন আন্দোলনকারী। জনতার ব্যাপক বিক্ষোভ সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে গত ১১ তারিখ পদত্যাগ করেন কে পি শর্মা ওলি। রমেশ লেখক তার আগেই পদত্যাগ করেছিলেন। পদত্যাগের পর নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সরকারের অধীনে জনবিক্ষোভ ও অভ্যুত্থান তদন্তে সাবেক বিশেষ জজ গৌরী বাহাদুর কার্কিকে প্রধান করে একটি কমিশনও গঠন করা হয়। গত ৫ জানুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার মাধ্যমে বিদায় নিয়েছে নেপালের অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনে জয়ী হয়ে নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বালেন্দ্র শাহ, যিনি বালেন শাহ নামেও পরিচিত। বালেন নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। তার বয়স ৩৫ বছর এবং তিনি নেপালি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতা। কে পি শর্মা অলি এবং রমেশ লেখক গ্রেপ্তার হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বালেন শাহের নেৃতত্বাধীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরং বলেছেন, “এটা কোনো প্রতিশোধ নয়, বরং প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। আমরা ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।” সূত্র : ফার্স্টপোস্ট।

March 28, 2026

Read Full Article
Source Information
BD24Live
BD24Live
Bangladesh
Unknown