
0
চীন ও ভারতের মানুষ কেবল সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে: ট্রাম্প
April 23, 2026
Posted 1 hour ago by
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ রেডিও সঞ্চালক মাইকেল সেভেজের একটি বিতর্কিত চিঠি শেয়ার করেছেন। ওই চিঠিতে ভারত, চীনসহ কয়েকটি দেশ নিয়ে আপত্তিকর ও বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিঠিতে সেভেজ ভারত ও চীনকে ‘হেলহোল’ বা ‘নরক’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, এসব দেশ থেকে কিছু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে আসে যাতে ওই সন্তান জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনের অপব্যবহার বলে উল্লেখ করে এ প্রথা বন্ধের আহ্বান জানান। এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেভেজ আরও দাবি করেন যে কিছু ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে নবম মাসে এসে সন্তান জন্ম দেন এবং সেই শিশুর নাগরিকত্বের মাধ্যমে পরবর্তীতে পুরো পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন। ট্রাম্প এই পোস্টটি এমন এক সময়ে শেয়ার করলেন যার ঠিক এক দিন আগেই তিনি সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে তথ্যগতভাবে ট্রাম্পের এই দাবিটি সঠিক নয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বাস্তবতা হলো, বিশ্বের প্রায় তিন ডজনেরও বেশি দেশে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কানাডা ও মেক্সিকো ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশে এই আইন প্রচলিত আছে। ট্রাম্পের এমন মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং বর্ণবাদী মন্তব্য শেয়ার করার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে ভারত ও চীনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে ট্রাম্প আবারও অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন এবং এর অংশ হিসেবেই তিনি এ ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণায় সায় দিচ্ছেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার কর্মী এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের মন্তব্যকে ‘বিদ্বেষমূলক’ এবং ‘বর্ণবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা মনে করছেন, ভারত ও চীনের মতো বন্ধুপ্রতিম ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলো সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বর্তমানে নানা কৌশলগত অংশীদারিত্বে যুক্ত, সেখানে ট্রাম্পের এমন অবস্থান দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলেছে। সূত্র: এনডিটিভি

BD24Live
Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.