
৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য তেল সরবরাহ বন্ধ
March 29, 2026
BD24Live
নীলফামারীতে জ্বালানি তেল চুরির অভিযোগে তিন শ্রমিককে কারাদণ্ড ও জরিমানা দেওয়ার প্রতিবাদে রংপুর বিভাগের আট জেলায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে তেল উত্তোলন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ রেখে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ফলে তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিও। এর ফলে রংপুর বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৮ মার্চ) পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে যমুনা অয়েল কোম্পানির জ্বালানি তেল নিয়ে একটি ট্যাংকলরী নীলফামারীর উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চালক ও সহকারীরা গাড়ি থামিয়ে মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় নীলফামারী জেলার এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তেল চুরির অভিযোগ আনেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লরি ম্যানেজার একরামুল হক, চালক শ্রীকৃষ্ণ ও সহকারী রিফাতকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই দণ্ডকে ‘হয়রানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে শ্রমিকরা আজ সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, আমাদের শ্রমিকরা চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল না, তারা কেবল গাড়ি মেরামত করছিল। অবিলম্বে কারাবন্দি শ্রমিকদের মুক্তি দিতে হবে। এছাড়া অভিযুক্ত এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়াকে বদলি না করা হলে আমাদের এই আন্দোলন আরও কঠোর হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। শ্রমিকরা অভিযুক্তদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মোবাইল কোর্টের দেওয়া সাজা থেকে সরাসরি নিঃশর্ত মুক্তির সুযোগ নেই; এ ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী আপিল করতে হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের আপিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুনানি হলে এক-দুদিনের মধ্যেই জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শ্রমিকরা এখনো সেই পরামর্শ মেনে নিচ্ছেন না। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।

BD24Live
Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.