
0
শেখ হাসিনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করলেন সাবেক মন্ত্রী
April 21, 2026
Posted 5 hours ago by
হাসিনা সরকারের বিভিন্ন ভুল অকপটে স্বীকার করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, সরকারের শেষ দিকে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোমেন বলেন, সরকার ক্রমেই সরকারি কর্মচারীদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। “ওরা যা বলে তাই”—এই প্রবণতার কারণে রাজনৈতিক নেতাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ কমে যায়। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগও ছিল সীমিত। বড় কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে রাজনীতিবিদরা কাছে যেতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা দূরে সরিয়ে দিতেন। ফলে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি, বিশেষ করে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ কমে যায়। মোমেন স্বীকার করেন, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কমে যাওয়া এবং চাঁদাবাজির বিস্তার—এই দুই বিষয় ছিল সরকারের বড় ভুল। তার ভাষায়, “আমাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়েছে—জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে চাঁদাবাজির প্রবণতা বাড়া।” সিলেট বিমানবন্দরের একটি প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ার পেছনে দুর্নীতিই প্রধান কারণ। প্রকল্পে বিলম্ব হলে খরচ বাড়ে এবং অতিরিক্ত অর্থের বড় অংশ অপচয় বা দুর্নীতিতে চলে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কোটা সংস্কার প্রসঙ্গে মোমেন বলেন, দল হিসেবে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান ছিল। তবে বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত ছিল বলে মত দেন তিনি। ব্যাংকিং খাতে অনিয়মের বিষয়েও কথা বলেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, কিছু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছে এবং এতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি সম্পৃক্ততা সবসময় ছিল না। তিনি আরও বলেন, “কোনো রাজনীতিবিদ একা দুর্নীতি করতে পারে না। সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব নয়,” উল্লেখ করে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে যোগসাজশের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

BD24Live
Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.