Advertisement
মার্কিন পাইলটকে জীবিত পেতে মরিয়া কেন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
World

মার্কিন পাইলটকে জীবিত পেতে মরিয়া কেন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

April 4, 2026
BD24Live
Scroll

ইরানে আগ্রাসন চালাতে গিয়ে সংঘাতের ৩৫তম দিন শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ধ্বংসাত্মক পরিণতি দেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিন নিজ ভূমিতে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেনারা। এরপর থেকে বিমানটির দুই পালটকে হন্যে হয়ে খুঁজছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে যে, তারা এক পাইলটকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এর আগেই দুই বৈমানিককে ধরতে জনপ্রতি ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে ইরান। সেই থেকে প্রশ্ন উঠছে যে, উভয় রাষ্ট্র মার্কিন পাইলটদের জীবিত পেতে কেন এতো মরিয়া? পাইলটের খোঁজে ইরানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে তেহরানের সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তন্নতন্ন করে খুঁজছে সাধারণ নাগরিকরাও। এফ-১৫ জেটটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় এতে দুজন পাইলট ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক্সিওস এবং সিবিএস নিউজ শুক্রবার বিকেলে জানিয়েছে যে, এক পাইলটকে মার্কিন বাহিনী উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও দ্বিতীয় বৈমানিকের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। টাইম ম্যাগাজিন এই উদ্ধার অভিযানের প্রক্রিয়া এবং নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারে সামরিক বাহিনী কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিউস্টন ক্যান্টওয়েল এবং মেজর জেনারেল থমাস কুঙ্কেলের সঙ্গে কথা বলেছে। সাবেক মার্কিন সামরিক উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাইলট কুঙ্কেল বলেন, আমরা আমাদের পুরো কর্মজীবন এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রশিক্ষণের পেছনে ব্যয় করি, তাই এই মিশন পরিচালনার জন্য আমাদের চেয়ে ভালো প্রশিক্ষিত এবং প্রস্তুত বাহিনী আর নেই। আমাদের যে বৈমানিকরা বিপদের মুখে পড়েন, তাদের উদ্ধার এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা চরম সীমা পর্যন্ত যেতে পারি। যুদ্ধের কৌশল হিসেবে জনসম্মুখে পুরস্কার ঘোষণা টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে আটক করতে পারলে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ১০ বিলিয়ন তোমান (৬০ হাজার ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করেছে এবং দুর্ঘটনাস্থলের কাছের গ্রামীণ প্রদেশগুলোতে এ সংক্রান্ত আবেদন প্রচার করছে। খবর পাওয়া গেছে, সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত যানবাহনে করে ওই এলাকার দিকে রওনা হয়েছে; তবে কর্তৃপক্ষ তাদের সংযত থাকতে এবং পাইলটের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করার জন্য সতর্ক করেছে। একটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে এমন জনসমক্ষে পুরস্কার ঘোষণা মার্কিন উদ্ধার তৎপরতাকে জটিল করে তুলতে পারে এবং শত্রুতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্যাপক আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এমএসএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চল, ইসরাইল এবং ইরান জুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিমান অভিযান ও অবকাঠামো আক্রমণের মধ্য দিয়ে ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার জোরদার করার অঙ্গীকার এবং ইরানের চরম প্রতিশোধ নেওয়ার শপথের পর উভয় পক্ষই বিভিন্ন প্রতীকী ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন জেট বিধ্বস্ত হওয়ার এই ঘটনা উভয় পক্ষের অবস্থানকে আরও কঠোর করতে পারে, কূটনীতির পথ সংকীর্ণ করতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। অনুসন্ধান অভিযানের সম্ভাব্য ফলাফল মার্কিন বাহিনী যদি দ্রুত নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করতে পারে, তবে এই ঘটনা সীমিত কৌশলগত ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে, ইরান যদি তাকে বন্দি করতে সক্ষম হয়, তবে এটি উচ্চ-পর্যায়ের দরকষাকষি বা উদ্ধার প্রচেষ্টার দিকে মোড় নিতে পারে, যা অতীতের জিম্মি সংকটের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় এবং উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে। অন্যদিকে পাইলটের পরিণতি নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তাকে উভয় পক্ষই প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, যা পারস্পরিক অবিশ্বাসকে আরও গভীর এবং যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পাইলটকে ইরান আটক করতে পারলে যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তার কাছ থেকে জানার চেষ্টা করা হবে যে, ইরানে আগ্রাসন চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র কী পরিমাণ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে, সেগুলোর সক্ষমতাই-বা কেমন? আবার আকাশে গোপনে আক্রমণের অনেক তথ্যও তার কাছ থেকে আদায় করার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া তাকে নিয়ে ব্যাপক প্রচার চলবে যে, ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে ব্যাকফুটে চলে গেছে বা পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে আছে। যার জ্বলন্ত প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করানো হবে আটক করা পাইলটকে। আবার যুক্তরাষ্ট্র তাকে ফেরৎ পেতে মরিয়া হওয়ায় এর বিনিময়ে মার্কিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে দিতে বলতে পারে ইরান। এমনকি ওয়াশিংটনকে হামলা থেকে পিছু হটতেও বাধ্য করতে পারে তেহরান। আর যদি যুক্তরাষ্ট্র তাকেও কোনোভাবে উদ্ধার করতে পারে তাহলে তারা দাপটের সঙ্গে সংঘাত চালিয়ে যেতে পারে। উদ্ধার প্রক্রিয়া ক্যান্টওয়েল টাইমকে বলেন, এটি অত্যন্ত জটিল একটি প্রচেষ্টা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যখন কোনো ক্রু সদস্য প্যারাসুট নিয়ে বিমান থেকে বেরিয়ে যান, তখন একটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ট বা সঙ্কেত তৈরি হয় এবং এর মাধ্যমেই সাধারণত সামরিক বাহিনী জানতে পারে যে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এরপর প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার হয় ক্রু সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করা। তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো আকাশযানের ক্রুরা ঠিক কোথায় আছেন। আর এই তথ্য পাওয়া খুবই কঠিন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শত্রু বাহিনী প্রায়ই নিখোঁজ ক্রু সদস্যরা কোথায় অবতরণ করতে পারেন সে সম্পর্কে স্পুফিং বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এটি শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও বাস্তবে এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। বিমানবাহিনীর যোদ্ধাদের এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য একটি কঠোর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়। ক্যান্টওয়েল বলেন, আটকে পড়া ক্রু সদস্যদের জন্য পরিস্থিতি এতটাই পরিবর্তনশীল হতে পারে যে আপনার করার মতো নির্দিষ্ট কোনো কাজ নেই। কুঙ্কেল প্রশিক্ষণের প্রসঙ্গ টেনে যোগ করেন, হয়তো তারা কয়েক বছর আগে এই প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, কিন্তু আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি যে বিপদের মুহূর্তে এটি তাৎক্ষণিকভাবে কাজে দেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধের মিশনে যাওয়ার আগে সবসময় রিফ্রেসার ট্রেনিং বা পুনরায় ঝালাই করে নেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ক্রু সদস্যদের কাছে সাধারণত একটি সারভাইভাল কিট (বেঁচে থাকার সরঞ্জাম) থাকে যা বিমান থেকে বের হওয়ার সময়ও তাদের সঙ্গেই থাকে। এতে মার্কিন কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষ ধরনের রেডিও ডিভাইস থাকতে পারে। একবার ক্রু সদস্যের অবস্থান শনাক্ত হয়ে গেলে একটি রেসকিউ প্যাকেজ বা উদ্ধারকারী দল গঠন করা হয়। এতে বেশ কিছু সরঞ্জাম এবং জনবল থাকে যারা সফলভাবে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করতে পরিবেশগত এবং পরিস্থিতির বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। জনবল ও সরঞ্জাম কুঙ্কেল তার আগের মিশনগুলোর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনুমান করছেন যে, বর্তমানে ইরানে নিখোঁজ ক্রু সদস্যের জন্য পরিচালিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে প্রায় ১০ থেকে ২০ জনের একটি দল মোতায়েন করা হতে পারে। তার মতে, এই ধরনের উদ্ধারের জন্য এইচএইচ-৬০ডব্লিউ হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়, যা মূলত এই ধরনের মিশনের জন্যই তৈরি। যেহেতু এই হেলিকপ্টারগুলোকে উদ্ধারের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, তাই তাদের পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করতে এইচসি-১৩০জে মডেলের রিফুয়েলিং বিমানও মোতায়েন করা হবে। ক্যান্টওয়েল আরও জানান যে, অভিযানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি ইলেকট্রনিক জ্যামিং বিমানও মোতায়েন করা হতে পারে। এছাড়া শত্রু বাহিনীর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এ-১০ নামক একটি ভারী সাঁজোয়া বিমানও সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। তিনি টাইমকে বলেন, উদ্ধার করার সময় যদি কোনো শত্রু বাহিনীকে দমনের প্রয়োজন হয়, তবে এ-১০ বিমানটি কভারিং ফায়ার বা গোলাবর্ষণ করে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারটিকে সেখানে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেবে। মার্কিন পাইলট আটকের খবর ভূপাতিত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটের পরিণতি নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশনের সঙ্গে যুক্ত নতুন অপুষ্ট রিপোর্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অস্পষ্ট পোস্ট এই অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে আইআরজিসি ইন্টেলিজেন্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি শেয়ার করা হয় যেখানে একটি বিমানের ইজেকশন সিট (পাইলট বের হওয়ার আসন) দেখা যাচ্ছে। ছবিটির সঙ্গে দেওয়া একটি বার্তায় মার্কিন ‘ন্যারেটিভ’ বা প্রচার কৌশলের সমালোচনা করা হয়েছে। পোস্টটিতে তথাকথিত বর্তমান আমেরিকান প্লেবুক বা কৌশল হিসেবে বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লক্ষ্যভেদে ব্যর্থতাকে গতিশীল অপারেশন হিসেবে চালানো, পরাজয়কে মিশন সম্পন্ন বলা এবং অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ বা পদত্যাগকে নেতৃত্বের পরিবর্তন হিসেবে উপস্থাপন করা। এতে আরও অভিযোগ করা হয় যে, দুর্বল অবস্থান থেকে আলোচনার চেষ্টাকে তারা দ্রুত ও স্মার্ট চুক্তি এবং আঞ্চলিক প্রত্যাহারকে অগ্রাধিকারের পুনঃসংজ্ঞা হিসেবে প্রচার করছে। ছবিটি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে, যা পাইলটের ভাগ্য নিয়ে জল্পনা-কল্পনাকে আরও ঘনীভূত করেছে। অন্যদিকে অসমর্থিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর পাইলট প্যারাসুট নিয়ে বেরিয়ে এসে ইরানি ভূখণ্ডে অবতরণ করেন। কিছু সূত্রের দাবি, পাইলট জীবিত আছেন এমন ইঙ্গিত পেয়ে মার্কিন বাহিনী তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আবার অন্যান্য কিছু সূত্রের দাবি, পাইলট ইরানি বাহিনীর হাতে বন্দি হয়ে থাকতে পারেন।

মার্কিন পাইলটকে জীবিত পেতে মরিয়া কেন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
BD24Live
BD24Live

Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.

Bangladesh
Bias: Unknown
Advertisement
You might also like

Explore More