Advertisement
বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে সবচেয়ে যে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
World

বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে সবচেয়ে যে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

April 2, 2026
BD24Live
Scroll

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম—এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম The Independent। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন মানুষের দেশ বাংলাদেশ তার জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বিশেষ করে Strait of Hormuz বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এ প্রণালী দিয়ে এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকটের প্রভাব দৃশ্যমান। অনেক স্থানে মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে একজন ভুক্তভোগী কর্মজীবী মানুষের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, অনেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। রাজধানীর ব্যস্ত সড়কেও যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে। সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—যানবাহনের জন্য জ্বালানি রেশনিংডিজেল বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণবিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর নির্দেশনা এছাড়া নতুন সরকার প্রধান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের পূর্বাঞ্চলীয় পরিশোধনাগারে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে মাত্র দুই সপ্তাহের চাহিদা মেটানো সম্ভব। কিছু ক্ষেত্রে মজুত ১০ দিনের নিচেও নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Petrobangla উচ্চমূল্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে, যা আগের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি) বিভিন্ন উৎস থেকে ডিজেল আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে। জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম সতর্ক করে বলেছেন, আমদানিনির্ভরতার কারণে এশিয়ায় বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি বলেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, লোডশেডিং বাড়তে পারে এবং অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে কোনো জ্বালানি সংকট নেই এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সাশ্রয়, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ছাড়া সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে সবচেয়ে যে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
BD24Live
BD24Live

Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.

Bangladesh
Bias: Unknown
Advertisement
You might also like

Explore More