
বরিশালে তেল নিতে লাগবে হেলমেট ও বৈধ কাগজপত্র: তদারকিতে ট্যাগ অফিসার
March 30, 2026
BD24Live
ঈদের টানা ৭ দিন ছুটি পরবর্তী দুই কর্মদিবস কাটিয়ে আরও ৩ দিনের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকার পাশাপাশি ঘর ও কর্মস্থলমুখী জনস্রোত সামাল দিতে সড়ক ও নৌপথে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলে বাড়তি জ্বালানি চাহিদার বিপত্তি কাটিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে একই সাথে মোটরবাইকসহ প্রায় সব যানবাহনেই অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতাও কিছুটা জটিল করে তুললেও প্রশাসনের নিবিড় মনিটরিং ও কঠোর অবস্থানে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে ৫টি তেল ডিপোতে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এমনকি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার হিসেবে ১ জন করে প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগের পরে তারা সেখানে অবস্থান করছেন। এসব কর্মকর্তাগণ সব ধরনের জ্বালানির মজুত, বিক্রি ও বিপণন ব্যবস্থা সরেজমিনে তদারক করছেন। শুধু বরিশাল জেলার ২৯টি পেট্রোল পাম্পেই সমসংখ্যক প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এসব ট্যাগ অফিসারদের কার্যক্রম তদারকি করছেন সংশ্লিষ্ট ইউএনওসহ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি স্বয়ং জেলা প্রশাসক প্রতিদিন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে জ্বালানির মজুত পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থাও মনিটরিং করছেন। বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমন জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু ঈদের আগে পরের ছুটির পাশাপাশি সড়ক ও নৌপথে বাড়তি যাত্রী পরিবহনে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ নিয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তাঁর মতে, আমাদের দেশে এখন পেট্রোল ও অকটেন আমদানির প্রয়োজন হয় না। গ্যাসের উৎস থেকে পেট্রোল ও অকটেনে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। সুতরাং কোনো অবস্থাতেই পেট্রোল ও অকটেনের ন্যূনতম কোনো ঘাটতির সুযোগ নেই। ডিজেলেও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে কিছু মোটরবাইকের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতায় কিছুটা প্যানিক তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাবৃন্দ। এসব মোটরবাইকের কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্সসহ হেলমেট থাকার শর্তে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারলে বাড়তি চাহিদা বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন একাধিক ট্যাগ অফিসারগণ। জেলা প্রশাসকও বিষয়টির সাথে একমত পোষণ করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। তবে যানবাহনের জ্বালানির চেয়েও বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কৃষি সেচ কাজে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৪ লাখ হেক্টরের বোরো ধানের সেচাবাদে বর্তমানে যে প্রায় ৮৭ হাজার পাওয়ার পাম্প চলমান রয়েছে, তার প্রায় ৭৫ হাজারই ডিজেল চালিত। এসব পাম্পে গড়ে দৈনিক ৫ লক্ষাধিক লিটার ডিজেল প্রয়োজন। সেচাবাদে সরবরাহ ও সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখাই এখন সরকারসহ স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন কৃষিবিদগণ। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেচাবাদে বড় ধরনের কোনো জ্বালানি সংকট তৈরি হয়নি। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বরিশালের বিভাগীয় প্রশাসনও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করছে বলে বিভাগীয় কমিশনার মো.

মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন। চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে আবাদকৃত প্রায় ৪ লাখ হেক্টর জমি থেকে কৃষিযোদ্ধাগণ ১৮ লাখ টনের কাছাকাছি বোরো চাল ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশাবাদী কৃষি মন্ত্রণালয়।
BD24Live
Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.