Advertisement
বন্ধের দ্বারপ্রান্তে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি
World

বন্ধের দ্বারপ্রান্তে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

April 4, 2026
BD24Live
Scroll

দেড় মাসের বেশি সময় ধরে ক্রুড অয়েলের চালান না আসায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল) কাঁচামাল সংকটে পড়েছে। যদি শীঘ্রই নতুন চালান না আসে, তবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ইআরএল সচল রাখতে বিকল্প উৎস হিসেবে মালয়েশিয়া থেকে দ্রুত ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আনার চেষ্টা করছে। চালানটি চলতি মাসের ১৩ তারিখের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো.

বন্ধের দ্বারপ্রান্তে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

রেজানুর রহমান জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে ইআরএল হয়তো বন্ধ করতে হবে না। তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে সৌদি আরবে আটকে থাকা জাহাজ নরডিক পোলাক্স থেকেও ১ লাখ টনের মতো ক্রুড অয়েল দেশে আনার চেষ্টা চলছে। সাধারণত ইআরএলের ক্রুড অয়েল আমদানি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হয়, কিন্তু আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিতে মালয়েশিয়াকে বিকল্প হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রায় ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে এসেছিল। এরপর আর কোনো চালান পৌঁছায়নি। হরমুজ প্রণালীর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্বের জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করে। ইআরএলের দৈনিক শোধন ক্ষমতা ৪,১০০–৪,২০০ মেট্রিক টন। ৩০ মার্চ পর্যন্ত মজুত ছিল প্রায় ৩০,০০০ টন, যা ৭ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালু রাখতে যথেষ্ট ছিল। তবে মজুত বাড়ানোর জন্য দৈনিক শোধন কিছুটা কমানো হচ্ছে। জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া দেশের একমাত্র তেল শোধনাগারের বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত শোধনাগারটিতে ডিজেল ছাড়াও এলপিজি, ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, কেরোসিন ন্যাপথা, বিটুমিনসহ ১৩ ধরনের জ্বালানি ও উপজাত পণ্য উৎপাদন করা হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় কিছুটা হলেও চাপ তৈরি হবে। এটি মোট চাহিদার ২০ শতাংশের মতো জ্বালানি জোগান দিয়ে থাকে। দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৬৮ লাখ টন। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পরিশোধিত তেলের দামের চেয়ে কম। তাই পরিশোধন বন্ধ হয়ে গেলে পরিশোধিত জ¦ালানি তেলের আমদানি বাড়াতে হবে। সে ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইস্টার্ন রিফাইনারির মহাব্যবস্থাপক (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কন্ট্রোল) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কাঁচামালের যে মজুত রয়েছে তা দিয়ে ১০-১২ এপ্রিল পর্যন্ত চালানো যাবে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে ক্রুড অয়েলের চালানটি এসে গেলে হয়তো বন্ধ করার প্রয়োজন পড়বে না। আর চালানটি আসতে কিছুটা দেরি হলে অল্প কিছুদিনের জন্য হয়তো প্ল্যান্ট বন্ধ রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে দেশে জ¦ালানি তেলের তেমন বড় রকমের সমস্যা হবে না। রিফাইনারি বন্ধ নতুন কিছু নয়। প্রতি বছর ওভারহলিংয়ের জন্য এক-দুই মাস এমনিতেই বন্ধ রাখতে হয়। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

BD24Live
BD24Live

Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.

Bangladesh
Bias: Unknown
Advertisement
You might also like

Explore More