
পে-স্কেল দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া স্মারকলিপিতে যা আছে
April 6, 2026
BD24Live
৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার (৬ এপ্রিল) তারা আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিটি খাতে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব ক্ষেত্রেই তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে ২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেল চালুর পর প্রায় ১১ বছর পার হলেও এখনো ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এই দীর্ঘ সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায়, বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়েছেন। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মচারী ব্যাংক ও প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে বারবার ঋণ নিয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও বেতন কাঠামোয় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২০১৫ সালের পে-স্কেলে দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন সমন্বয়ের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়। ফলে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে। ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পক্ষে স্মারকলিপিতে উল্লিখিত যুক্তিগুলো হলো: ১। দীর্ঘ সময় বেতন কাঠামো অপরিবর্তীত, সাধারণত ৫ বছর পরপর নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করার প্রচলন থাকলেও প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। এতে সরকারি চাকরিজীবিদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। ২। দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ২০১৫ সালের তুলনায় বর্তমান খাদ্য দ্রব্য, পরিবহন, বাসা ভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে ব্যয় বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে অথচ সেই তুলনায় কর্মচারীদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে। ৩। সরকারি চাকরির মর্যাদা ও আকর্ষণ কমে যাওয়া বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তব জীবনের ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং কর্মচারীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ও মানসিক চাপ বেড়েছে। ৪। প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে যদি সরকারি-কর্মকর্তা কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা হয় তাহলে তাদের কর্মস্পৃহা ও দায়িত্ববোধ আরো বাড়বে যা রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে। ৫। সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি তাদের জীবনমান উন্নত হলে তা রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সরকারি কর্মচারীরা বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে এবং এই অগ্রযাত্রায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশের লাখো কর্মচারীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। তারা আরও বলেন, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হোক। এতে কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত হবে, কর্মক্ষেত্রে তারা আরও উৎসাহিত হবেন এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আর্থিক সুবিধা বাড়লে পরিবারগুলো কিছুটা স্বচ্ছলভাবে চলতে পারবে। এছাড়া তারা প্রধানমন্ত্রীর মানবিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবির প্রতি তিনি ইতিবাচক দৃষ্টি দেবেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তার কাছে বিনীত অনুরোধ জানান তারা।

BD24Live
Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.