
পঞ্চগড় পৌরসভায় টিআর কর্মসূচির অর্থ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ
April 6, 2026
BD24Live
পঞ্চগড় পৌরসভার গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির অর্থ বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত ভাড়া বাড়িতে থাকা বেসরকারি মাদ্রাসায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, এমনকি অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার নামেও বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর ফলে টিআর কর্মসূচির অর্থের কোনো হদিস মিলছে না, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।জানা গেছে, গত অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩ মার্চ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে পঞ্চগড় পৌরসভার সাতটি মাদ্রাসায় টিআর কর্মসূচির আওতায় উন্নয়ন কাজের জন্য মোট ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মাদ্রাসাগুলো হলো: ইসলামবাগ মাদ্রাসাতুল রাইয়ান মাদ্রাসা, রৌশনাবাগ মাদরাসাতুল ফালা বালিকা মাদ্রাসা, পঞ্চগড় মার্কাস উন্নয়ন মাদ্রাসা, রৌশনাবাগ মাদরাসাতুল ফালা বালক মাদ্রাসা, ইসলামবাগ মাদ্রাসাতুল রাইয়ান মাদ্রাসা, মিসবাউল উলুম নূরানি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা দক্ষিণ রাজনগর এবং তুলারডাঙ্গা নূরানি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা।এর মধ্যে রৌশনাবাগ মাদরাসাতুল ফালা বালক ও বালিকা মাদ্রাসা, এবং মহিলা কলেজ রোডে অবস্থিত অন্য একটি মাদ্রাসা ভাড়া বাড়িতে ছাত্রছাত্রীদের বেতন ফি দিয়ে পরিচালিত হয়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো, পঞ্চগড় মার্কাস উন্নয়ন মাদ্রাসার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, মার্কাস মাদ্রাসার কোনো অবকাঠামো নেই এবং এলাকাবাসীও এই মাদ্রাসার অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত নন। এমনকি, মার্কাস মাদ্রাসার নামে বরাদ্দকৃত ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ের কোনো হিসাবও এলাকাবাসী জানাতে পারেননি।পঞ্চগড় পৌরসভার পশ্চিম জালাসি মার্কাস মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা জোবায়ের রাব্বি জানান, মার্কাস মসজিদ সংলগ্ন মার্কাস নামে কোনো মাদ্রাসা আছে বলে তার জানা নেই এবং তিনি কখনো মাদ্রাসার কার্যক্রম দেখতে পাননি। মার্কাস মসজিদের সাবেক ইমাম আরিফুল ইসলামও বলেন, তিনি গত ১৪ মাস ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এই মসজিদ চত্বরে মার্কাস মসজিদ, মেহমান খানা ও সাইকেল গ্যারেজ থাকলেও কোনো মাদ্রাসার কার্যক্রম তিনি দেখেননি। মার্কাস মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি মাসুদ প্রধান রানা জানান, তিনি নিয়মিত এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন, কিন্তু কখনো মাদ্রাসার অস্তিত্ব দেখেননি। মুসল্লিরাও মাদ্রাসার উন্নয়নের নামে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার খবর জানেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন।এ বিষয়ে মার্কাস মসজিদের দায়িত্বে থাকা হাজী আব্দুল আলীম খান জানান, মার্কাস মাদ্রাসার কোনো কার্যক্রম হয় না, তবে মেহমান খানাতে মাদ্রাসা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বরাদ্দকৃত টাকা মেহমান খানা এবং ল্যাট্রিন মেরামতের কাজে ব্যয় করা হয়েছে।জানতে চাওয়া হলে পঞ্চগড় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দে জানান, তিনি পঞ্চগড় মার্কাস মসজিদ পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যদি কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়, তবে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ব্যক্তিগত মাদ্রাসায় বরাদ্দ পাবে কিনা, সে বিষয়ে শর্তাবলী দেখতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

BD24Live
Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.