
0
ট্রাম্পের ‘ডেডলাইন’ শেষ হলে ৫ বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিতে পারে ইরান
April 13, 2026
BD24Live
মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যথায় ইরানের অবকাঠামোর ওপর বিধ্বংসী হামলা চালানোর হুমকিও দিয়েছেন তিনি। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নমনীয়তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলেও ইরান প্রচলিত প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে যাবে না, যেমনটি তারা অতীতেও করেনি। বরং তাদের কৌশল হলো ‘লেয়ার্ড অ্যাসিমেট্রি’—অর্থাৎ এমনভাবে পরিস্থিতি জটিল করে তোলা, যাতে সংঘাতের ব্যয় এতটাই বেড়ে যায় যে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিজেই চাপে পড়ে। হরমুজ অবরোধ করলে ইরান এই পাঁচটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিতে পারে— ১। বিশ্বকে আরও বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা দেওয়া ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো তার ভৌগোলিক অবস্থান। হরমুজ প্রণালিতে স্মার্ট মাইন ও জিপিএস জ্যামিং ব্যবহারের মাধ্যমে তারা পুরো নৌপথটিকে কার্যত একটি ‘কিল জোন’-এ পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক তেলের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এখানে যদি একটি তেলবাহী ট্যাংকারও ডুবে যায়, তাহলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ফাইবার অপটিক ক্যাবলগুলোকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত বা বিচ্ছিন্ন করা হলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে ইন্টারনেট, ব্যাংকিং এবং তথ্য আদান-প্রদানের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিকে অনেকেই সম্ভাব্য ‘ডিজিটাল আরমাগেডন’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। ২। তেলের আঞ্চলিক অবকাঠামো ধ্বংস ইরানের নীতি হলো ‘আমরা তেল না বেচতে না পারলে কেউ বেচতে পারবে না।’ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারের পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সহজ লক্ষ্য। এগুলো আঘাত পেলে বড় উপসাগরীয় শহরগুলোতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি সংকট দেখা দেবে। ৩। সাইবার যুদ্ধ ইরানের ‘হান্দালা’ গ্রুপের মতো দলগুলো ইতোমধ্যে সক্রিয়। এরা মার্কিন বিদ্যুৎ গ্রিড, পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় হামলা করতে পারে। জাহাজের জিপিএস সংকেত পাল্টে দিয়ে সংঘর্ষ ঘটানোর সক্ষমতাও তাদের আছে। ৪। ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ – এর ব্যবহার ইরান তার আঞ্চলিক মিত্রদেরও মাঠে নামাতে পারে। ইরাক ও সিরিয়া থেকে মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট ও ড্রোন হামলা, ইয়েমেনের হুথিদের মাধ্যমে লোহিত সাগর বন্ধ এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মাধ্যমে ইসরায়েলের উত্তরে হামলা একসাথে হতে পারে। ৫। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সাম্রাজ্যে ফাটল ধরানো ইরান সম্ভাব্যভাবে চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের জাহাজগুলোকে ‘সেফ প্যাসেজ’ দেওয়ার কৌশল নিতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটে বিভাজন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এই দেশগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রধান লক্ষ্য সরাসরি সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করা নয়। বরং তারা এমন একটি কৌশল অনুসরণ করছে, যার মাধ্যমে সংঘাতের খরচ এতটাই বাড়িয়ে তোলা যায় যে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই নয়, পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম হলে সম্ভাব্য বৈশ্বিক অস্থিরতা বা বিপর্যয়ের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

BD24Live
Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.