“খাল-জলাশয়-নদী বাঁচাও, সৌর থেকে শক্তি নাও, পৃথিবীকে বাঁচাও”
0
World

“খাল-জলাশয়-নদী বাঁচাও, সৌর থেকে শক্তি নাও, পৃথিবীকে বাঁচাও”

April 19, 2026
Scroll

Posted 5 hours ago by

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েস-এর ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে এক দাবীমূলক সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— “খাল - জলাশয় - নদী বাঁচাও, সৌর থেকে শক্তি নাও, পৃথিবীকে বাঁচাও”। গ্রীন ভয়েস এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সুমন এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকদার, সভাপতি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা); মহিদুল হক খান, সহ-সভাপতি, বাপা; গ্রীন ভয়েস-এর উপদেষ্টা স্থপতি ইকবাল হাবিব; সিনিয়র সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া; জাতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব রুস্তম আলী খোকন; গ্রীন ভয়েস-এর উপদেষ্টা এ.

“খাল-জলাশয়-নদী বাঁচাও, সৌর থেকে শক্তি নাও, পৃথিবীকে বাঁচাও”

টি. এম. তাহমিদুজ্জামান; বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস; গ্রীন ভয়েস-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম রাতুল, আরিফুর রহমান, মোনছেফা তৃপ্তি, শাকিল কবির, ফাহমিদা নাজনীনসহ সংগঠনের বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ। সঞ্চালনায় ছিলেন গ্রীন ভয়েস কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য আব্দুর রহিম। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী ও জলাশয় রক্ষা মানে দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করা। সরকার, নাগরিক সমাজ ও তরুণদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পরিবেশ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। গ্রীন ভয়েস-এর উপদেষ্টা স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জলাধার ভরাটের ফলে শহরগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। নগর পরিকল্পনায় খাল, জলাশয় ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃতি বাঁচলেই নগর বাঁচবে। গ্রীন ভয়েস-এর উপদেষ্টা সিনিয়র সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া বলেন, পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা তৈরি করতে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে। সত্য তুলে ধরতে হবে, যাতে মানুষ প্রকৃতি রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত হয়। জাতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব রুস্তম আলী খোকন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবেশ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতি ও জলবায়ু সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তরুণরাই সবুজ পৃথিবীর নেতৃত্ব দেবে। গ্রীন ভয়েস-এর উপদেষ্টা এ. টি. এম. তাহমিদুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এখনই সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে জোর দিতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে না পারলে ভবিষ্যৎ আরও সংকটময় হবে। বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস বলেন, বুড়িগঙ্গাসহ দেশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে কঠোর আইন প্রয়োগ ও নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে গ্রীন ভয়েস-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সুমন বলেন, বাংলাদেশের খাল, জলাশয় ও নদীগুলো দখল-দূষণের কারণে আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়ন কখনো টেকসই হতে পারে না। পরিবেশ রক্ষায় তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তির প্রসার ঘটিয়ে আমরা দূষণমুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পারি। ২১ বছরের পথ চলায় যাদের সহযোগিতা পেয়েছি তাদেরকে অভিনন্দন, যাদেরকে হারিয়েছি তাদেরকে আজ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে নিয়ে গ্রীন ভয়েস এগিয়ে যাচ্ছে তার স্বপ্নের পথে। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সরদার হীরক রাজা, সামাদ প্রধান, আশিকুর রহমান অন্তর, আলী আহসানসহ কেন্দ্রীয় টিমের নেতৃবৃন্দ; যুবনেতা খান আসাদুজ্জামান মাসুম; সেফটি ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন স্বপনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া গ্রীন ভয়েস-এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, ঢাকা কলেজ শাখা, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শাখা, সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা, তেজগাঁও কলেজ শাখা, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি শাখা, সরকারি বাংলা কলেজ শাখা, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ শাখা, ইডেন মহিলা কলেজ শাখা, হাবীবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটি কলেজ শাখা, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ শাখা, সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল শাখা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখার প্রায় ৫০০ এর বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশ শেষে একটি র‌্যালি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর থেকে শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে শাহবাগ প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশ থেকে নিম্নলিখিত দাবিসমূহ তুলে ধরা হয়— ১. খাল, জলাশয় ও নদী দখল-দূষণ বন্ধ করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধারে জরুরি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ২. নবায়নযোগ্য শক্তি, বিশেষত সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে; বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি না করে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় কমিয়ে জ্বালানি খাতে নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। ৩. ইটভাটা, শিল্পকারখানা ও যানবাহনের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ৪. অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বন উজাড় রোধ এবং কৃষিজমি সংরক্ষণে কার্যকর নজরদারি ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৫. খাদ্যে বিষাক্ত উপাদান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা চালু এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

BD24Live
BD24Live

Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.

Bangladesh
Bias: Unknown

People's Voices (0)

Leave a comment
0/500
Note: Comments are moderated. Please keep it civil. Max 3 comments per day.
You might also like

Explore More