
0
কুমিল্লায় স্বামীর দেওয়া আগুনে দ্বগ্ধ হয়ে স্ত্রীর মৃত্যু
April 20, 2026
Posted 4 hours ago by
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্বামীর দেওয়া আগুনে দ্বগ্ধ হয়ে ৭ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ঢাকা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ফাতেমা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের চাঁপাচৌ গ্রামে। ফাতেমা ওই গ্রামের জাবেদ হোসেন (৩৫) ড্রাইভারের স্ত্রী। মৃত্যুর তথ্যটি সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিশ্চিত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। গৃহবধূর গায়ে আগুন দেওয়ার পর থেকেই স্বামী পলাতক রয়েছে। মৃত্যু আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রী ফাতেমা একটি ভিডিও ফুটেজে অভিযোগ করে বলেন, আমি বাড়িতে গিয়ে আমের ভর্তা বানিয়ে দিয়েছি, সন্ধ্যায় আমাকে গালিগালাজ করে একপর্যায়ে আমার গলা টিপে ধরে, আমি মাটিতে পড়লে খাটের নিচ থেকে তৈলের (জ্বালানি তেল) বোতল খুলে আমার গায়ে তেল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের বুরনকরা গ্রামের আবুল হাসেম প্রকাশ টুকু মিয়ার মেয়ে ফাতেমা বেগমের সাথে পাশ্ববর্তী গুনবতীর চাঁপাচৌ গ্রামের অলি আহমদের ছেলে জাবেদ হোসেন ড্রাইভারের সাথে ১০ বছর পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে তাদের পারিবারিক কলহ চলছিলো। এরই জের ধরে পূনরায় গত ১৩ এপ্রিল (সোমবার) রাতে স্বামী-স্ত্রী ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে ফাতেমার শরীরের আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এ সময়ে তার চিৎকারে আশে-পাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে স্থানীয়দের সহয়তায় গৃহবধূকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করে। সেখানে ৭ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে রোববার ভোরে গৃহবধূ ফাতেমা মারা গেলে তার স্বজনরা বিনা ময়নাতদন্তে লাশ নিয়ে আসার চেষ্টা করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানা পুলিশকে অবগত করে। পরে পুলিশ গৃহবধূ ফাতেমার লাশ তাদের জিম্মায় নিয়ে মৃত্যুর তথ্য জানতে চেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানাকে খবর দেয়। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, সোমবার সকালে ঢাকার শাহবাগ থানা থেকে মেইলের মাধ্যমে জানতে পারি, উপজেলার গুনবতীর চাঁপাচৌ গ্রামের ফাতেমা বেগম নামে এক গৃহবধূ অগ্নিদ্বন্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা বার্ন ইউনিটে মৃত্যুবরণ করে। অগ্নিকান্ডের ঘটনার তথ্য জানতে চেয়েছে তারা। তদন্তে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল রাতে পারিবারিক কলহের জের ফাতেমা বেগম নামে ওই গৃহবধূ অগ্নিদ্বগ্ধ হয়। ওসি আরো জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ফাতেমার স্বামী জাবেদ হোসেন একজন গাড়ি চালক। তার ঘরে পেট্রোল ও অকটেন জাতীয় তৈল পূর্ব থেকে মজুদ ছিলো। দু’জনের ঝগড়ার একপর্যায়ে মজুদকৃত জ্বালানী তৈল দিয়ে অগ্নিদ্বগ্ধের ঘটনা ঘটে। আমরা আজ (সোমবার) তদন্ত প্রতিবেদনটি শাহবাগ থানায় প্রেরণ করি। ওসি আরিফ হোছাইন আরো বলেন, এই গৃহবধূর পরিবার যদি কোন মামলা দায়ের করতে চায় তাহলে আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। স্থানীয় ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাদ্দাম হোসেন বলেন, জাবেদ ড্রাইভার একজন গাড়ি চালক, তৈলের এই সংকটের সময়ে তিনি নিজ ঘরে জ্বালানী তৈল মজুদ করে রাখতো। আর সেই মজুদকৃত তৈলেই অগ্নিদ্বগ্ধের ঘটনা ঘটে। তাদের বিয়ের পর থেকেই পারিবাহিক কলহ চলে আসছিলো। নিহত গৃহবধূ ফাতেমা বেগমের চাচাতো ভাই আসিফ সোমবার সন্ধায় জানান, আমার বোনকে পরিকল্পিত ভাবে ঘরের ভিতর রাখা মজুদকৃত তৈল দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোরে সে ঢাকা বার্ন ইউনিটে মৃত্যুবরণ করে। ময়নাতদন্তের কাজ শেষ না হওয়ায় আজ সোমবার সন্ধা পর্যন্ত লাশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেনি। আমরা এই হত্যার বিচার চাই। গৃহবধূ ফাতেমা বেগম অগ্নিদ্বগ্ধ হওয়ার পর থেকেই স্বামী জাবেদ হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।

BD24Live
Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.