
কুড়িগ্রামে ড্রেজারে মাটি কেটে বসতঘর ধস, ৩৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি
April 10, 2026
BD24Live
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি খননের ফলে একটি বসতবাড়ির পাকা ঘর ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।জানা যায়, উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল কাদের ব্যাপারীর ছেলে শামীমুল আলম বাবুর সঙ্গে প্রতিবেশী দেওয়ানেরখামার গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে আমিনুর রহমানের জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। সম্প্রতি শামীমুল আলম বাবু টাইলসযুক্ত একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ শুরু করলে এতে বাধা দেন প্রতিপক্ষ। পরে সরকারি সার্ভেয়ার এনে সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে বাড়ির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বাড়ির মালিকসহ পরিবারের সদস্যরা বাইরে থাকার সুযোগে আমিনুর রহমান ও তার সহযোগীরা বসতবাড়ির সীমানা ঘেঁষে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ড্রেজার বসিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি খনন করেন। এতে বাড়ির মূল কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ঘরটি গর্তের দিকে হেলে পড়ে। পাশাপাশি কয়েকটি কক্ষে ফাটল দেখা দেয়, যা বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাড়ির মালিক ফিরে এসে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হামলার চেষ্টা করে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই রাতেই শামীমুল আলম বাবু ভূরুঙ্গামারী থানায় আমিনুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগের ভিত্তিতে ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই আহসান হাবীব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বসতবাড়ির সীমানা ঘেঁষে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি খননের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, জমি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে, তবে এভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে বসতবাড়ি ধ্বংস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

BD24Live
Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.