
ঈদের পরও কমেনি ভাড়া, কুমিল্লা–ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে নৈরাজ্য, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
March 29, 2026
BD24Live
পবিত্র ঈদুল ফিতরের এক সপ্তাহ পার হলেও কুমিল্লা–ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে সিএনজি ও অটোরিকশার ভাড়া স্বাভাবিক হয়নি। ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়ানো অতিরিক্ত ভাড়াই এখনো বহাল রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। রোববার (২৯ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ব্রাহ্মণপাড়া থেকে কুমিল্লা রুটে স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ভাড়া ছিল ৬০ টাকা, সেখানে বর্তমানে যাত্রীদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর এ ভাড়া আরও বৃদ্ধি পায়। নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইলে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের গাড়িতে তুলতেও অনীহা প্রকাশ করছেন চালকেরা—এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে সড়কের খারাপ অবস্থার অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলেও বর্তমানে সড়কের বড় অংশ সংস্কার করা হয়েছে। তবুও ভাড়া কমানো হয়নি। বরং ঈদের সময় বাড়ানো ভাড়াকে স্থায়ী করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক যাত্রী জানান, অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ করলে অনেক সময় চালকদের অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে নারী যাত্রী ও পরিবার নিয়ে যাতায়াতকারীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ন্যায্য ভাড়ায় যানবাহন না পেয়ে অনেককে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, কিছু অসাধু চালক সিন্ডিকেট করে এ ভাড়া নৈরাজ্য চালাচ্ছেন। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ী কোনো প্রভাব ফেলছে না। তবে চালকেরা ভাড়া বৃদ্ধির পক্ষে নিজেদের যুক্তিও তুলে ধরেছেন। ব্রাহ্মণপাড়া–কুমিল্লা রুটের সিএনজি চালক জহির মিয়া বলেন, ঈদের সময় যাত্রী বেশি থাকে, চাহিদা বাড়ে-তাই কিছুটা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সবাইই নিচ্ছে। আরেক চালক মানিক বলেন, এ এলাকায় গ্যাস স্টেশন না থাকায় দূর থেকে গ্যাস আনতে হয়। পাশাপাশি গাড়ির যন্ত্রাংশের দামও বেড়েছে। তাই আগের ভাড়ায় গাড়ি চালানো কঠিন। ঈদ শেষে ঢাকায় কর্মস্থলে ফেরার পথে ভোগান্তির কথা জানিয়ে যাত্রী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “পরিবার নিয়ে ঈদ করতে এসে এখন বাড়তি ভাড়া দিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এই সড়কে ভাড়ার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।” বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, নির্ধারিত ভাড়া তালিকা বাস্তবায়ন, নিয়মিত মনিটরিং এবং অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, উৎসব এলেই কিছু অসাধু সিএনজি চালক নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

BD24Live
Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.