
ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে যে দেশ
April 9, 2026
BD24Live
ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তেলের দাম বৃদ্ধির সুবিধা নিচ্ছে রাশিয়া। চলতি এপ্রিল মাসেই দেশটির তেল উত্তোলন কর থেকে আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সৃষ্ট তেল ও গ্যাস সংকটই রাশিয়ার আয়ের এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে রাশিয়ার জন্য এটি একটি অপ্রত্যাশিত আর্থিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান এই সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। বিশ্বে মোট তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে হওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। রাশিয়ার তেল ও গ্যাস খাতের প্রধান রাজস্ব আসে উৎপাদনভিত্তিক কর থেকে। ২০২৪ সালের শুরুতে কর সংস্কারের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি শুল্ক বাতিল করা হয়। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে তেল উত্তোলন কর থেকে রাশিয়ার আয় প্রায় ৭০০ বিলিয়ন রুবলে পৌঁছাতে পারে, যা মার্চ মাসে ছিল ৩২৭ বিলিয়ন রুবল। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। ২০২৬ সালের জন্য এই খাত থেকে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি রুবল আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাশিয়া। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউরালস ক্রুডের গড় দাম মার্চে ব্যারেলপ্রতি ৭৭ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল ৪৪ দশমিক ৫৯ ডলার অর্থাৎ এক মাসে প্রায় ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি চলতি বছরের বাজেটে নির্ধারিত ৫৯ ডলারের অনুমানকেও ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের চাহিদাও বেড়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। তবে এই বাড়তি আয়ের মধ্যেও ঝুঁকি রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ২০২৬ সাল রাশিয়ার জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশটির বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার কোটি রুবল, যা জিডিপির ১ দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়া, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার এই অতিরিক্ত আয়ের পরিমাণ অনেকটাই নির্ভর করবে ইরান সংকট কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর। সূত্র: রয়টার্স।

BD24Live
Coverage and analysis from Bangladesh. All insights are generated by our AI narrative analysis engine.