
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা পিছিয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন। চলমান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় অগ্রগতির কারণ দেখিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ সংবাদ জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, “ইরান সরকারের অনুরোধে” তিনি বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করছেন। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত এই বিরতি থাকবে। এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যাতে তারা Strait of Hormuz পুনরায় খুলে দেয়। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এর আগে রোববার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। পরে সোমবার তিনি “গঠনমূলক আলোচনা”র কথা উল্লেখ করে আরও পাঁচ দিন সময় বাড়ান—যদিও ইরান এমন কোনো আলোচনা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যুদ্ধ দ্রুত শেষের পথে, তবে বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে প্রায় ১,৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে, ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা Geneva Conventions অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মানবাধিকার সংস্থা Amnesty International এই পরিকল্পনাকে “সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের হুমকি” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে যে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না এবং তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে তারা অঞ্চলে আরও ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ চালাবে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের দিকে না গিয়ে বরং আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোতে পারে, বিশেষ করে যদি স্থল অভিযান শুরু হয়।
March 27, 2026